Author: Sk. Abdul Hamid
DOI Link: https://doi.org/10.70798/Bijmrd/04020036
Abstract : বৈদিক ধর্মের জটিলতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের আবির্ভাব। এই ভারতবর্ষে বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশাল ঐতিহ্য লক্ষ্য করা যায়। এই শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের সৎ, নীতিপরায়ণ, চরিত্রবান নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও পেশাগত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হতো, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল সুমধুর। এই শিক্ষাব্যবস্থা ছিল ‘নির্বাণ’ লাভকেন্দ্রিক। তাই সেই সমস্ত নীতিগুলি অনুশীলন করা হতো যেগুলি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক দৃঢ়তা সৃষ্টি করতো। এজন্য বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘পঞ্চশীল’, ‘দশশীল’ নীতির কথা বলা হয়েছে। ‘সংঘ’ বা ‘বিহার’কে কেন্দ্র করেই বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হত। বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠক্রমে ‘ত্রিপিটকের’ স্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ, এছাড়াও ভেষজ, রসায়ন, স্থাপত্য, চিকিৎসাবিদ্যা পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হতো ‘প্রবজ্জা’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, পরে শিক্ষার্থীরা ‘উপসম্পদা’, ‘উপাধ্যায়’ প্রভৃতি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করত। শিক্ষার দ্বার সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত ছিল। বিখ্যাত বিহার গুলোর পাঠক্রম ছিল উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ের সমতুল্য। বিহার গুলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী পরবর্তীকালে পন্ডিত, শিক্ষক, বিচারক, চিকিৎসক, কূটনীতিবিদ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হতেন। প্রতিষ্ঠানগুলি এভাবেই সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখে যেত।
Keywords: ত্রিপিটক, ত্রিশরণ, আর্যসত্য, দ্বাদশ নিদান, অষ্টাঙ্গিক মার্গ, বিহার, পঞ্চশীল, প্রবজ্জা, দশশীল, উপসম্পদা, উপাধ্যায়।
Page No: 278-282
