একজন ‘হিজড়ে’র আত্মকথন: একটি পর্যালোচনা

Author: Dr. Puja Karmakar

DOI Link: https://doi.org/10.70798/Bijmrd/04020028

Abstract(সারসংক্ষেপ): বাংলা কথাসাহিত্যে যৌন সংখ্যালঘু মানুষের কথা নানাভাবে উঠে এসেছে। পুরুষ সমকামী, নারী সমকামী, পুরুষালী নারী অথবা নারীসুলভ পুরুষ, রূপান্তকামী নারী ও রূপান্তকামী পুরুষ ইত্যাদি সূক্ষ্ম যৌনতার স্তরগুলি চরিত্রের আধারে বাংলা কথাসাহিত্যে নানাভাবে পরিবেশিত হয়েছে। এই আখ্যানগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিষমকামী শিশ্ন-যোনি সম্পর্ক নির্মিত সংখ্যাগরিষ্ঠের সমাজকাঠামোয় যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মপরিচয়গত দ্বন্দ্ব ও সংকট তুলে ধরা। হিজড়ে সম্প্রদায়কে আমরা সাহিত্য ও বাস্তবতা উভয়ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করে বুঝেছি অন্যান্য রূপান্তরকামী মানুষদের তুলনায় হিজড়ে সমাজের মানুষদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একরকম দুঃসাহসিকতা আছে। এই দুঃসাহসিক চরিত্র বৈশিষ্ট্য হিজড়ে সমাজের নিজস্ব মৌলিক সমাজব্যবস্থা ও জীবনযাপন থেকে প্রাপ্ত। পুরুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, কিন্তু তথাকথিত মূলস্রোতের সমাজকে তোয়াক্কা না করে নারীসত্তাকে প্রকাশ্যে এনে এরা বেশি করে দৃশ্যমান হয়েছে। বিষমকামীর চোখে তথাকথিত রুচিহীন সংস্কৃতিহীন মানুষগুলি যেভাবে মানুষের আদিম জৈব প্রবৃত্তিকে উলঙ্গ করেছে তাতে ভদ্রলোক সমাজের চক্ষুশূল হবে বই কি! এত দৃশ্যমান হওয়ার শাস্তিস্বরূপ সংস্কৃতিবান ভদ্রলোক সমাজ ‘হিজড়ে’ শব্দটিকেই আলাদা করে গালাগাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। সমাজ সংস্কৃতি ও কথাসাহিত্যের জগতের অনেক স্থানেই মেয়েলি আচরণ করা পুরুষকে ‘হিজড়ে’ সম্বোধন করে গালিগালাজ করার দৃষ্টান্ত আছে। যদিও সম্পূর্ণ হিজড়ে সমাজ নিয়ে রচিত কবিতা, উপন্যাস কিংবা নাটকের সংখ্যা নিতান্তই কম। না-পুরুষ না-নারীর রহস্যময়তা দেখাতে গিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঔপন্যাসিকরা হিজড়েদের জন্মগত পরিচয়ের দিকটি নিয়ে পাঠককে বিভ্রান্ত করেছেন। সাধারণের ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ধারণার বশবর্তী হয়ে কোনো ঔপন্যাসিক হিজড়েদের ‘উভলিঙ্গ’ করে তুলে ধরেছেন। বাংলায় হিজড়ে বিষয়ক প্রথম সার্থক আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রচনা করেন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান আলোচনায় আমরা কোনো উপন্যাসের আখ্যান নয়, সরাসরি একজন ‘হিজড়ে’ পরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের বয়ানে তাঁর আত্মজীবনীর পূঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করতে চেয়েছি, তা হল তামিল ভাষায় লেখা A. Revathi-র Unarvum Uruvamum, এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ ২০১০ সালে প্রকাশ করেন V. Geetha, যার নাম The Truth About Me – A Hijra Life Story। এই গ্রন্থের মধ্যে দিয়ে হিজড়ে সম্প্রদায়ের যৌনতা, মৌলিক সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থান, রীতি-নীতি, আচার অনুষ্ঠান, মৌলিক দেব-দেবীসহ একটি সার্বিক ধারণা পেতে পারি, যা হিজড়েদের জীবন ও সমাজ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ।

Keywords(মূল শব্দ): নির্বাণাম, গুরুমা, যৌনপেশা, বহুচেরা, ইরাবান।

Page No: 217-224