জেতোড়: ইতিহাসে অবহেলিত জনজাতি

Author: Dr. Ajoy Kumar Mandal

DOI Link: https://doi.org/10.70798/Bijmrd/03110033

Abstract: কাসাই- সুবর্ণরেখা অববাহিকা বিস্তৃত অঞ্চলে জেতোড় জনগোষ্ঠীর প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। প্রচলিত আদমশুমারির বিবরণ এবং সরকার ঘোষিত জাতি ও উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর জাতির তালিকায় এদের কোন উল্লেখ দেখা যায় না। বাংলার জনজাতির প্রকৃত ইতিহাসের স্বরূপ উপলব্ধির জন্য, এদের জীবন ও সংস্কৃতির পর্যালোচনা একান্ত অনিবার্য। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে এই জাতির সম্পর্কে কেউই সেই ভাবে উল্লেখ করেননি কোন গ্রন্থে। এই জনগোষ্ঠীর মূল অবস্থান পশ্চিম সীমান্ত বঙ্গের কংসাবতী ও সুবর্ণরেখা নদীর অববাহিকা, যা মূলত পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলা। জেতোড় সমাজ মূলত মাতৃতান্ত্রিক সমাজ। কিংবদন্তি অনুসারে হাজার হাজার বছর ধরে জাত হারিয়ে বিভিন্ন বর্ণের সংমিশ্রণে বা অবৈধ যৌন সংসর্গে জেতোড় জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে। কৃষি কাজ এদের মূল অর্থনীতি। এছাড়াও বাড়ির মহিলারা জঙ্গলে জ্বালানি সংগ্রহের কাজে যুক্ত। তবে এদের সুনাম মূলত ধাত্রীবিদ্যায়। পুরুষেরা নদীতে মাছ ধরতে যায়, বালি খাদানে কাজ করে এবং ইট ভাটাতে ও কাজ করে। বংশগত ধারাবাহিকতায় এরা গান-বাজনাতে খুবই উৎসাহী। দৈহিক গঠন ও পোষাক পরিচ্ছদে আদিমতার ছাপ স্পষ্ট। এদের সামাজিক অবস্থান মূলত, মূল সমাজ জীবন থেকে বহু দূরে, স্থানগত বিচ্ছিন্নতা বা ভৌগোলিক দূরত্ব এবং সমাজের জাতি বর্ণগত ব্যবধান জনিত সামাজিক বিচ্ছিন্নতার প্রভাবে, জেতোড় জনজাতির জাতিগত প্রকৃতি এবং সংস্কৃতিক রূপ প্রকৃতপক্ষে প্রান্তীয় সংস্কৃতির বিশিষ্ট স্বরূপকেই প্রতিফলিত করে। বাংলার এই প্রাচীন প্রান্তিক জনজাতি বাংলার বৃহৎ সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল বিচ্যুত কেন? আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে এদের বৃহত্তর আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে বৈপরিত্য আদিম ধারা অনুসরণে বাধ্য করেছে? এসকল উদ্ভূত প্রশ্নাবলীর তথ্যনিষ্ঠ আলোচনা এই প্রবন্ধে অবতারণা করার প্রয়াস।

Keywords: জেতোড়, কংসাবতী, সুবর্ণরেখা, নরতা, হাতিমানা ডোম, বাউরি, করমডাল, সুশীল সমাজ।

Page No: 271-277