Author: পিপাসা কুণ্ডু
DOI Link: https://doi.org/10.70798/Bijmrd/03120022
Abstract(সারসংক্ষেপ): বাঙ্গালীদের কাছে অক্ষয় কুমারদত্ত কার্যত বিস্তৃত কেন? বাঙালি বিস্মরণ প্রবন জাতি একথা বলে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না। শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের বহুধা বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি, তার দুঃসাহসী বহুমুখী সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও বাস্তব কর্মকাণ্ডকে নেহাত কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না বলেই আমরা বাঙালি ভদ্রলোকেরা তার নামটি মনে রাখতে বাধ্য হয়েছি। আর অক্ষয়কুমারের ক্ষেত্রে তো ব্যাপারটা একেবারেই অন্যরকম। তার কাজের ক্ষেত্র ছিল সীমিত। বিজ্ঞান প্রচারক রূপে, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক রূপে, দর্শনের নব ব্যাখ্যাকার ও ইতিহাসকার রূপে, ভাষাতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্বের গবেষক রূপে, শিক্ষিত বাঙালি মানুষের বিশ্লেষণাত্মক বিজ্ঞান চেতনা জাগানোর মধ্যে তার কর্মকাণ্ড সীমায়িত ছিল। বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিশীলতাকে ন্যায্য গুরুত্ব দেওয়ার দরুন দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে তার মতপার্থক্য হয়, ছাড়তে হয় তত্ত্ববোধিনীর সম্পাদক পদ। মস্তিষ্ক চর্চা ছাড়া উপার্জনের আর কোন পথ তার জানা ছিল না। সেই পথ ধরেই সারা জীবন চলেছিলেন। প্রথম জীবনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠেছিলেন শুধু বই লিখে। দুঃসহ শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে অসীম ধৈর্যে অকল্পনীয় পরিশ্রমে যে অমূল্য ফসল তিনি ফলিয়ে গেলেন তা থেকে পুণ্য অর্জন করার কোন দায় আমরা পরবর্তী কালে অনুভব করিনি। তারই পরিণতি আজকের এই বিস্মৃতি। যে সাহসের সঙ্গে তিনি মূল স্রোতের বিরোধিতা করে আপন স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, শেষ দিন পর্যন্ত যেভাবে অনুসন্ধান বৃত্তিকে জাগিয়ে রেখেছিলেন, সেই মুক্তমন সাহসিকতার জন্যই আর তিনি আমাদের কাছে নতুন করে অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন। আপ্ত বাক্যের পায়ে চিন্তাহীন আত্মসমর্পণ নয়- ‘সুনির্মল’ বৈজ্ঞানিক বুদ্ধি শাসিত বাস্তবমুখী জীবনচর্চায় উদ্বুদ্ধ করাই অক্ষয়কুমার দত্তের সবচেয়ে বড় অবদান।
Keywords(মূল শব্দ): যুক্তিবাদী, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, বিজ্ঞানমনস্ক, বিদ্যাসাগার, দেবেন্দ্রনাথ।
Page No: 189-198
