Author: Amiya Kumar Sing
DOI Link: https://doi.org/10.70798/Bijmrd/04030020
Abstract: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোগলমারি বৌদ্ধবিহার প্রাচীন বঙ্গের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ইতিহাস, প্রত্নস্থাপত্য, আঞ্চলিক শিল্পরীতি এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তুগত সাক্ষ্য। বহুদিন ধরে গ্রামীণ লোকস্মৃতি, ভগ্ন টিলা এবং অচিহ্নিত ইটের স্তূপের মধ্যে আড়ালে থাকা এই প্রত্নক্ষেত্র খননের মাধ্যমে উন্মোচিত হওয়ার পর স্পষ্ট হয়েছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গ কেবল সীমান্তভূমি ছিল না; বরং এটি ছিল ধর্মীয় যোগাযোগ, মঠ-সংস্কৃতি, আচার, শিল্প ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের এক সক্রিয় ক্ষেত্র।
মোগলমারিতে ২০০২–০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া খননে একটি বৌদ্ধবিহার-কমপ্লেক্স, কোষকক্ষ, বৃত্তাকার স্তূপভিত্তি, স্টুকো অলংকৃত প্রাচীর, বুদ্ধমূর্তি, ভোটিভ ট্যাবলেট, প্রদক্ষিণপথ এবং কেন্দ্রীয় ধর্মীয় কাঠামোর উপস্থিতি প্রতীয়মান হয়েছে।³ ⁴ এই প্রবন্ধে মোগলমারির স্থাপত্যকে কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষ হিসেবে নয়, বরং এক বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার দলিল হিসেবে বিচার করা হয়েছে।
এখানে দেখানো হয়েছে যে, দাঁতনের মোগলমারির স্থাপত্যে গুপ্তোত্তর ও পালীয় বৌদ্ধ স্থাপত্যধারার প্রভাব থাকলেও এর নির্মাণে স্থানীয় পরিবেশ, বঙ্গ-উড়িষ্যা সংযোগভূমির ভূগোল, ইট-নির্ভর প্রযুক্তি এবং স্টুকো-অলংকরণের নিজস্ব রূপ এক স্বতন্ত্র আঞ্চলিক শৈলী নির্মাণ করেছে।⁵ ⁶ ⁷ গবেষণার মূল লক্ষ্য হল—(১) মোগলমারির স্থাপত্য কোন ঐতিহাসিক ধারার উত্তরাধিকার বহন করে, (২) এর শিল্প-অলংকরণ ও ধর্মীয় প্রতীকী ভাষা প্রাচীন বঙ্গের বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে কীভাবে প্রতিফলিত করে, এবং (৩) বর্তমান সংরক্ষণ-সংকট মোকাবিলায় কী ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ-দর্শন প্রয়োজন।
ঐতিহাসিক-ব্যাখ্যামূলক, তুলনামূলক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক-পাঠ পদ্ধতি অনুসরণ করে এই নিবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে মোগলমারি কোনও “প্রান্তিক” বৌদ্ধ নিদর্শন নয়; বরং এটি বঙ্গে বৌদ্ধ উপস্থিতির ভূগোল, আঞ্চলিক শিল্পচর্চা এবং ঐতিহ্য-সংরক্ষণবিষয়ক সমকালীন চর্চায় একটি কেন্দ্রীয় স্থান অধিকার করে।⁸ ⁹
Keywords: মোগলমারি; বৌদ্ধবিহার; প্রত্নতত্ত্ব; স্থাপত্য; স্টুকো অলংকরণ; পালযুগ; বৌদ্ধধর্ম; পশ্চিম মেদিনীপুর।
Page No: 158-164
