কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের রোহিণী চরিত্র নির্মাণে বঙ্কিমচন্দ্রের পাপবোধ ও শরৎচন্দ্রের সমালোচনা

Author: Dipak Kumar Ghosh

DOI Link: https://doi.org/10.70798/Bijmrd/04010036

Abstract(সংক্ষিপ্তসার): বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের রোহিণী চরিত্রের নির্মাণ এবং তার পরিণতির শৈল্পিক ও নৈতিক দিক বিশ্লেষণ করাই এই গবেষণাধর্মী নিবন্ধের মূল লক্ষ্য। নিবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসে রোহিণী চরিত্রের বিবর্তন এবং তার মর্মান্তিক পরিণতিকে ঘিরে বঙ্কিমচন্দ্রের পাপ-পুণ্য বোধ ও শিল্পাদর্শের স্বরূপ অনুসন্ধান করা হয়েছে। উপন্যাসের শুরুতে রোহিণীর প্রেম ও আত্মত্যাগের যে মহিমা দেখা যায়, কাহিনীর শেষভাগে তার আকস্মিক পরিবর্তন ও মৃত্যু নিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে কঠোর সমালোচনা করেছেন, তা এখানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। শরৎচন্দ্রের মতে, রোহিণীর চরিত্রে শুরু ও পরিণতির মধ্যে যে অসামঞ্জস্য রয়েছে, তা মূলত বঙ্কিমচন্দ্রের রক্ষণশীল সামাজিক নীতিবোধের ফলাফল। তবে নিবন্ধটি কেবল এই সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বঙ্কিমচন্দ্রের শিল্পদৃষ্টিকে গভীরতর আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে দেখানো হয়েছে যে, রোহিণীর ভালোবাসা মূলত ত্যাগের চেয়েও ভোগবিলাসের তাড়না এবং অবরুদ্ধ কামনার বহিঃপ্রকাশ ছিল। নিশাকরের প্রতি তার আকর্ষণ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে কাহিনীর স্বাভাবিক বিকাশ হিসেবে গণ্য করার যুক্তি প্রদান করা হয়েছে। শেক্সপিয়ার ও হার্ডির সাহিত্যের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বঙ্কিমচন্দ্র কেবলমাত্র নীতি রক্ষার জন্য নয়, বরং চরিত্রের অভ্যন্তরীণ প্রবৃত্তির যুক্তি মেনেই রোহিণীর পরিণতি অঙ্কন করেছেন। পরিশেষে, শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতানুসারে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, রোহিণীর চরিত্রে কোনো আকস্মিক রূপান্তর ঘটেনি এবং বঙ্কিমচন্দ্র একজন সার্থক শিল্পী হিসেবেই জীবনের রূঢ় সত্যকে তুলে ধরেছেন।

Keywords: সব্যসাচী, চড়াই‐উৎরাই, প্রেম‐প্রণয়, প্রোজ্জ্বলিত, সঙ্গীত, স্ফূরণ, মার্গ, প্রতীকী, সাংকেতিক, ইত্যকার, মনমাঝি।

Page No: 262-268