Author: Amartya Panja & Dr. Chandra Sekhar Halder
DOI Link: https://doi.org/10.70798/Bijmrd/04020037
Abstract: লোক-ঔষধ ও লোক-চিকিৎসা বাংলার গ্রামীণ ও আদিবাসী সমাজে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-ব্যবস্থা। পূর্ব ও অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বহু প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনও প্রাকৃতিক ভেষজ উদ্ভিদ, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং আচার-অনুষ্ঠাননির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। ক্ষেত্র-সমীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায় যে সাঁওতাল, লোধা, মুন্ডা, ভুমিজ প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে লোক-চিকিৎসা এখনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্রামীণ চিকিৎসক, ওঝা, কবিরাজ বা বৈদ্যরা বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদের পাতা, মূল, ছাল ও বীজ ব্যবহার করে নানা রোগের চিকিৎসা করেন।
গবেষণায় জানা যায় যে এই অঞ্চলে প্রায় ৫০–৫৫ ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন রোগ যেমন পেটের সমস্যা, জ্বর, সাপের কামড়, ত্বকের রোগ, বাতব্যথা ইত্যাদি নিরাময়ে ব্যবহার করে থাকে। এসব ভেষজ ওষুধ সাধারণত পেস্ট, ক্বাথ, তেল বা রসের আকারে প্রস্তুত করা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুনো উদ্ভিদই এর প্রধান উৎস।
তবে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বিস্তার, বনসম্পদের হ্রাস এবং তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে এই লোকজ চিকিৎসা-জ্ঞান ধীরে ধীরে বিলুপ্তির মুখে পড়ছে। তবুও এই জ্ঞানভাণ্ডার স্থানীয় সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই ভবিষ্যতের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা-জ্ঞান সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক যাচাই এবং নথিবদ্ধকরণ অত্যন্ত জরুরি। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণা করা হলে লোক-ঔষধ আধুনিক চিকিৎসা-বিজ্ঞানের বিকল্প বা পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Keywords: লোক-ঔষধ, লোক-চিকিৎসা, ক্ষেত্র-সমীক্ষা, পূর্ব মেদিনীপুর, অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুর, ভেষজ উদ্ভিদ, আদিবাসী স্বাস্থ্যচর্চা, গ্রামীণ চিকিৎসা পদ্ধতি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
Page No: 283-296
